রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

প্রথম ভাষণে নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৮:১৬

সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।”

রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। খালেদা জিয়াকে তিনি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত হিসেবে তুলে ধরে তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এই সংসদকে তিনি ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি ইতোমধ্যে সরকার ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করবেন।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শ তুলে ধরে তিনি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি সঠিক থাকলে আপনারা সাহায্য করবেন, আর ভুল করলে শুধরে দেবেন।”

সংসদের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সংসদে এমন অনেক সদস্য আছেন যারা ফাঁসির মঞ্চ, কারাগার, নির্বাসন কিংবা গুম-নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে এসেছেন।

বিখ্যাত আইনবিদ এ. ভি. ডাইসি-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—সরকার বা জনগণ সবাইকে আইনের অধীনেই থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র অনুসরণ করে দেশকে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে জাতির দর্পণ এবং এর লক্ষ্য হবে জনগণের কল্যাণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top