সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বিয়ে করা নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬, ১২:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে শায়খ আহমাদুল্লাহকে তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা নিয়ে এক ব্যক্তির প্রশ্ন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। প্রশ্নকারী ব্যক্তি জানান, তিনি একজন তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করেছেন। তবে তার পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি এবং এলাকার কিছু মানুষ তাকে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে নানা ধরনের কটু কথা বলছে। তিনি জানতে চান, এমন নারীকে বিয়ে করা কি ভুল হয়েছে এবং ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে।

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা নারীকে বিয়ে করার কারণে যদি কেউ পরিবার বা সমাজের কাছ থেকে কটু কথা শুনতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদের মুসলমান দাবি করলেও অন্যের ব্যাপারে অযথা কটূক্তি করেন। অথচ এমন নারীদের বিয়ে করা একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে তালাকপ্রাপ্তা নারীর দোষেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। অনেক সময় স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন ও পারিবারিক জটিলতার কারণেও নারীরা বিচ্ছেদের পথে যেতে বাধ্য হন।

তিনি আরও বলেন, একজন নির্যাতিত নারীর মন আগে থেকেই ভেঙে থাকে। এর ওপর সমাজ যদি তাকে অবজ্ঞা ও অপমান করে, তবে তা অত্যন্ত অন্যায়। এমন আচরণ একজন মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ সমাজের দ্বৈত মানসিকতার সমালোচনা করে বলেন, ভালো কাজ করলে অনেক সময় বাধা আসে, কিন্তু খারাপ কাজে সাধারণত কেউ বাধা দেয় না। একজন বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি নিজের নিরাপত্তা ও জীবনের প্রয়োজনে পুনরায় বিয়ে করেন, তবে তাকে সম্মান ও উৎসাহ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, একইভাবে একজন বয়স্ক ব্যক্তি যদি একাকীত্ব দূর করতে বা প্রয়োজনের কারণে বিয়ে করেন, সেটিও স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অনেক সময় তার নিজের সন্তানরাই এতে বাধা দেয়, যা স্বার্থপর আচরণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামের ইতিহাসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের জীবনে দেখা যায়, তাঁরা অনেক বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যেও অধিকাংশই ছিলেন বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা, শুধুমাত্র আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ব্যতীত।

শেষে তিনি বলেন, সমাজের কুসংস্কার দূর করতে হলে এমন ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে হবে এবং অযথা সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা ভালো কাজ নিয়ে বিদ্রূপ করে, তারা নিজেরাই ভুল পথে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top