আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে বড় বাধা ‘আস্থাহীনতা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই পক্ষের চরম আস্থাহীনতা। ইরানের দেওয়া ১৪ দফার নতুন প্রস্তাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পর্যালোচনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটানো না গেলে এই উদ্যোগ সফল হওয়া কঠিন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন প্রস্তাব দেয় তেহরান। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগের পরিকল্পনার জবাব হিসেবে এসেছে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবুও এখনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি।

ইরান চাইছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে। এই দুটি বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র ‘লাল দাগ’ হিসেবে দেখছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে কার্যত অবরোধ দেয় ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে জাহাজে হামলা ও পথরোধের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবে যা রয়েছে-

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়া হয়েছে। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

* ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা
* ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
* আটকে থাকা সম্পদ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
* যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
* সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ
* হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন কৌশল

এছাড়া আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারও দাবি করছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রস্তাবের খসড়া তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘খারাপ আচরণ’ করলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। তার দাবি, দীর্ঘদিনের অবরোধে ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার ছাড়া বড় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

আগের প্রস্তাব ও বর্তমান বাস্তবতা

এর আগে ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা প্রস্তাবে পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসসহ বিভিন্ন শর্ত দেয়। তবে কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ থাকায় তারা আবার সংঘাতে যেতে প্রস্তুত।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। নৌ অবরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সমাধান কূটনৈতিক পথেই সম্ভব হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর না হলে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি অধরাই থেকে যাবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top