মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানের তাৎপর্য

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্রতায় মোড়ানো মাস রমজান। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, শাবান মাসের শেষ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে বসে ইরশাদ করেন “তোমাদের সামনে এক মহাবরকতময় মাস সমাগত। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহতায়ালা এ মাসে দিনের বেলায় রোজা ফরজ করেছেন এবং রাতের ইবাদতকে করেছেন নফল।”

তিনি আরও বলেন, “এ মাসে যে ব্যক্তি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, সে যেন অন্য মাসে ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে ফরজ আদায় করবে, সে ৭০টি ফরজ আদায়ের সওয়াব লাভ করবে।”

(সুবহানাল্লাহ)

রমজান মাসে একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়। এটি কল্যাণ, নেক আমল ও তাকওয়া অর্জনের বিশেষ মাস। এ মাসে কেউ যদি একজন রোজাদারকে ইফতার করায়, তা তার জন্য গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির সহায়ক হয়। এতে ইফতারদাতার সওয়াব একটুও কমে না।

এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমাদের অনেকেরই সামর্থ্য নেই ভালোভাবে ইফতার করানোর। তখন রাসুল (সা.) বললেন “যে ব্যক্তি এক ঢোক দুধ, একটি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি দিয়েও রোজাদারকে ইফতার করাবে, আল্লাহ তাকে এ সওয়াব দান করবেন।”

আর যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে পেট ভরে খাওয়াবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে হাউজে কাওসার থেকে এমন পানি পান করাবেন যার পর জান্নাতে প্রবেশের আগে তার আর কখনো পিপাসা লাগবে না।

রমজান এমন এক মাস, যার প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়।

যে ব্যক্তি রমজানে তার অধীনস্থ কর্মচারীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেয়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
(বায়হাকি, কিতাবুস সাওম)

হাদিসে আরও এসেছে—রোজা হলো জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল। (মুসনাদে আহমদ)
রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত। (বুখারি শরিফ)

রোজার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—সাহরি ও ইফতার। রাসুল (সা.) বলেন, “সাহরিতে বরকত রয়েছে। সাহরি পরিত্যাগ করো না, যদিও এক ঢোক পানি দিয়েই হয়। আল্লাহ ও ফেরেশতারা সাহরিখোরদের জন্য দোয়া করেন।”

(মুসনাদে আহমদ)

সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। ইফতারের আগে দোয়া করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ সময় আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন “আমার কাছে সেই ব্যক্তি অধিক প্রিয়, যে দ্রুত ইফতার করে।”

১. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা ধূমপান করা
২. গুল ব্যবহার করা
৩. ইচ্ছাকৃত বমি করা
৪. যৌনমিলন করা
৫. এমন ইনজেকশন গ্রহণ করা, যা ক্ষুধা নিবারণ করে
৬. নারীদের হায়েজ (পিরিয়ড) শুরু হওয়া

রমজান মাসের অন্যতম নফল ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। চার রাকাত করে মোট ২০ রাকাত আদায় করা উত্তম।

রাসুল (সা.) বলেন “আল্লাহ রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি সুন্নত হিসেবে তারাবির নামাজ চালু করেছি।”

তিনি নিয়মিত তারাবি আদায় করলেও প্রতিরাতে জামাতে পড়েননি এ আশঙ্কায় যে, এটি উম্মতের ওপর ফরজ হয়ে যেতে পারে। তাই তারাবির নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। আর কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে পরবর্তী সময়ে গুনে গুনে তা পূরণ করবে।”

(সুরা বাকারা: ১৮৫)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করে সিয়াম যথাযথভাবে আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top