নিখোঁজ ১৩০
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এর তাণ্ডব: মৃত ১২৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:১৩
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিএমসি) জানিয়েছে, ঝড়ে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৪৪ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ডিএমসি, জানায় এএফপি।
গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি দ্বীপদেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে অবিরাম ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও হড়কা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ডিএমসি মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। নিখোঁজ রয়েছে আরও ১৩০ জন। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্য কাজ করছে।”
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর কারণে কিছু এলাকায় ৩০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা নতুন করে ভূমিধস ও হড়কা বন্যার সৃষ্টি করেছে। এতে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা থেকে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে বন্যার পানি শহরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে, বহু মানুষ আটকে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে না পারায় প্রত্যন্ত এলাকায় পরিস্থিতি আরো বিপর্যস্ত।
শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ডিটওয়াহ বর্তমানে উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের দিকে যাচ্ছে। তবে দেশটির নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় হুঁশিয়ারি আরও জোরালো করা হয়েছে।
ডিএমসি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচুস্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য কেলানি নদী উপত্যকার নিম্নাঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে সেচ বিভাগ। ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী কলম্বোসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।