পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২২ সেনাসহ প্রাণ গেল ২৫৫ জনের
সারাবিশ্ব ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৮
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে টানা তিন দিন ধরে চলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। পাশাপাশি সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫ জনে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তানজুড়ে একযোগে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। ওইদিন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশটির ১২টি শহর ও জনপদে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রথম দিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
পরবর্তী কয়েক দিনে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানের প্রাথমিক ধাপে ৯২ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয় বলে জানানো হয়, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে আখ্যায়িত এই গোষ্ঠীর সদস্যরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী সাহসিকতা ও পেশাদার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। তবে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে একদিনেই ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনা যায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এসব হামলার পরিকল্পনা দেশের বাইরে অবস্থানরত নেতাদের মাধ্যমে করা হয়েছে এবং হামলার সময় তারা সরাসরি হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক ও বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। গত বছর সংগঠনটি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।