ভারতের উসকানির জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:৪৮
ভারতের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের উসকানির বিপরীতে কঠোর ও যথাযথ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
শাহবাজ শরিফ বলেন, লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ভারত তার মদদপুষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ভারতের আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী নীতির অবসান না হলে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত যেকোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবিলায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতীতের মতোই দৃঢ়তা ও কার্যকারিতা দেখাবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে সেই শান্তি হতে হবে ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে।
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মারকা-ই-হক’ কেবল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পেশাগত দক্ষতার প্রতিফলন নয়, এটি কাশ্মীরি জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রামেরও স্বীকৃতি। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পরিসরে কাশ্মীর ইস্যু নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে এবং ভারতের প্রচারিত বয়ান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে তাদের পাশে থাকবে। ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কাশ্মীরিরা জীবন ও সন্তান উৎসর্গ করতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনো আপস করে না।
তিনি বুরহান ওয়ানি থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতা সৈয়দ আলী গিলানি পর্যন্ত কাশ্মীর আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আসিয়া আন্দ্রাবি, ইয়াসিন মালিক, মিরওয়াইজ উমর ফারুকসহ কাশ্মীরি নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, নারী ও শিশুদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
ভাষণে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কাশ্মীর পাকিস্তানের গলার শিরা”—এই নীতিই এখনো দেশটির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। তিনি কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, নিপীড়িত জনগণের মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রকৃত অঙ্গীকারের মানদণ্ড।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মুজাফফরাবাদ সফর করে কাশ্মীরি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তিনি ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে দ্রুত ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।