ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালাল ইরান
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:৩০
ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।
তারা আরও জানায়, প্রয়োজন অনুযায়ী হুমকি প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অপ্রবেশযোগ্য নয়। তাই জনসাধারণের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পুনরায় সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান ভয়াবহ জবাব দেবে।
এছাড়া ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেন, ‘আমরা আগেই আপনাদের সতর্ক করেছিলাম!’
তিনি আরও লেখেন, ‘এখন আপনারা এমন একটি পথে পা বাড়িয়েছেন, যার শেষ আর আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’ চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনা ইরানের পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে তুলল।
নিউইয়র্ক টাইমস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত। খবরে আরও বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, রাজধানী তেহরানে শনিবার খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খামেনিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া সৈয়দ খান্দান এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদসংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোয়, তবে তারা আবারও হামলা চালাবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালিয়েছে।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।