এনডিটিভির প্রতিবেদন

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল চীনা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:২৩

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা শুধু চীনা জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই নৌপথ বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বর্তমানে তাদের প্রণালীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং যেকোনো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সমুদ্রে প্রবেশের সুযোগ পায়। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে চীন ও ভারতের মতো এশীয় বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুট দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। বার্তা সংস্থা AFP–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে, উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকতে এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। চীন এরই মধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Xinhua–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

ওয়াং ই বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের উসকানি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের আহ্বান জানান।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top