বিএনপি- জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২:১৯
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে পৌর শহর এলাকায় আবারও দুই পক্ষের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থকেরা প্রচারণা চালানোর সময় ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপির এক কর্মী ভিডিও ধারণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের কর্মী–সমর্থকেরা। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এরপর বিকেলে পৌর শহরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দেওয়া হয়। এতে বিএনপি নেতা–কর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকে তার গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ সময় বিএনপির নেতা–কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশ প্রথমদিকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পৌর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনার পর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা থানা ঘেরাও ও বাউফল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এ ঘোষণার পর জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসহাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিএনপি নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে, এতে তাদের প্রায় ২০ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য বিজয় টের পেয়ে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।