শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধের নোটিশ দিয়েছে মসজিদ কমিটি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ২০:১২

সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া–পোড়াগ্রামে মাইকে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এলাকাজুড়ে নোটিশ সাঁটানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেসব নোটিশ ও ব্যানার অপসারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেররশিয়া–পোড়াগ্রাম জামে মসজিদের কয়েকজন সদস্য এই সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তারা ‘সমাজ রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠনও গঠন করেন। গত দুই মাস ধরে ওই সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামে তাদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা চলছিল।

গ্রামের বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো নোটিশে লেখা ছিল, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক, বিদ’আত, গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এই নিষেধাজ্ঞা শুধু গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেই নয়, বরং বিয়ে বাড়ি, বনভোজন, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, গ্রামে বিয়ে বাড়িতে গান-বাজনা হলে মৌলভীরা সেখানে বিয়ে পড়াতে যাবেন না—এমন কথাও বলা হয়েছে। আরেক বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে গান-বাজনা হারাম—এই বিশ্বাস থেকেই তারা এ উদ্যোগকে সমর্থন করছেন।

গান-বাজনা নিষিদ্ধ বাস্তবায়নে গঠিত কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, “হুজুরের পদক্ষেপে গ্রামের যুবক ও বয়স্করা উদ্যোগ নিয়েছি—আমাদের এলাকায় গান-বাজনা বাজাতে দেব না।”

তেররশিয়া–পোড়াগ্রাম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বিন খলিলুর রহমান বলেন, “সমাজ সংস্কার করা আলেমদের দায়িত্ব। অপসংস্কৃতি দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামে সাঁটানো সব নোটিশ ও ব্যানার অপসারণ করে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, “ঘটনাটি নজরে আসার পর পুলিশ পাঠিয়ে ব্যানার ও নোটিশগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেসব কাগজে লেখালেখি করা হয়েছিল সেগুলোও জব্দ করা হয়েছে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, মসজিদ কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। তাদের সভা করে লিখিতভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top