রংপুরে পশুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নজরদারি
রংপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী পশুর হাটে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী পশু বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার ফি নেওয়ার কথা না থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হচ্ছে। গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে রশিদে নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি থাকলেও বাস্তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই আলাদা করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতিটি লেনদেনে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
এছাড়া হাটে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অভিযোগ করেছেন, হাঁস-মুরগি বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রতি পিস হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের আয় কমিয়ে দিচ্ছে।
হাটে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও তা কোথাও দেখা যায়নি। ফলে প্রকৃত ফি সম্পর্কে অবগত না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাট সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা ইজারাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। নিজেদের সিদ্ধান্তে কোনো অর্থ আদায় করেন না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, কষ্ট করে পশু এনে বিক্রি করেও বাড়তি খরচের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি পরে কথা বলার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।