অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল জীবন, কঠিন সময়ের কথা বললেন ঐন্দ্রিলা সেন

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫৭

সংগৃহীত

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ও তাঁর মাকে এমন এক গভীর অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, যেখানে একসময় চরম হতাশা ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের।

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কোলাঘাটে একটি শুটিংয়ে যাওয়ার আগে বাবার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। শুটিং শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দুর্ঘটনার খবর আসে। দ্রুত কলকাতায় ফিরলেও বাবাকে আর জীবিত দেখতে পাননি তিনি।

বেহালা শীলপাড়া এলাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া ঐন্দ্রিলার ভাষায়, বাবাই ছিলেন তাঁদের পরিবারের ভরসা। তিনি বলেন, “আমরা এটিএম থেকে টাকা তোলা, বিদ্যুতের বিল দেওয়া—কিছুই জানতাম না। সবকিছুতেই বাবার ওপর নির্ভর করতাম।”

বাবার মৃত্যু মেনে নেওয়া যে কতটা কঠিন ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে ঐন্দ্রিলা জানান, শ্মশানে বসেও অবচেতনে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবাকে বলো, বাবা সব এনে দেবে।’ বাস্তবতাকে মেনে নিতে তাঁদের অনেক সময় লেগেছে।

এই অনিশ্চয়তা ও অসহায়তার মধ্যেই একসময় তিনি ও তাঁর মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঐন্দ্রিলা জানান, ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না—সংসার কীভাবে চলবে, কোথায় কী আছে, কিছুই জানা ছিল না। সেই হতাশা থেকেই তাঁরা দুজনেই গভীর মানসিক সংকটে পড়েছিলেন। তবে সময়, সংগ্রাম ও সাহসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে উঠে আসতে পেরেছেন তাঁরা।

অভিনয়জীবনের শুরু রবি কিনাগী পরিচালিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিৎ–কোয়েল অভিনীত এই ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। দীর্ঘ পথচলার পর আজ তিনি ভারতীয় বাংলা সিনেমার একজন ব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।

বর্তমানে ঐন্দ্রিলার হাতে রয়েছে ‘সাজঘর’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’সহ একাধিক চলচ্চিত্রের কাজ। নিজের জীবনের এই কঠিন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে তিনি মূলত এটিই বোঝাতে চেয়েছেন—চরম বিপর্যয়ের মাঝেও ধৈর্য ও সাহস নিয়ে এগোলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তাঁর গল্প অনেকের জন্যই হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top