আদালতের নির্দেশে মামলা: নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ দখলকারী টুলু পলাতক
জুবাইর আহমেদ খান রোহান | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:২৪
লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু (৫৫) মামলার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তিনি লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে খুঁজছে।
পুলিশ ও সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি রাতে টুলু দলবল নিয়ে বন্ধ থাকা গেস্ট হাউজে গিয়ে জোরপূর্বক তালা লাগান। পরে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আগের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মূল্যবান এসি, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত আদালতের আশ্রয় নেন। আদালত উপস্থাপিত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় টুলুসহ ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকায় প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত পাঁচতলা ভবনটির মালিক ছিলেন প্রয়াত এবিএম শরীফ উদ্দিন। তার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুত্রসন্তান না থাকায় ভাই হিসেবে টুলু ১.৩৩ শতাংশ অংশের মালিকানা পান। কিন্তু নিজের অংশের বাইরে পুরো প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালান।
ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন,
“প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য মূল মালিক আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু মনগড়া তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করায় প্রায় সাত মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। পরে তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক দখল নিয়েছেন। আদালত আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।”
মুকুট চন্দ্র আরও জানান, মালিকপক্ষ আইনগতভাবে টুলুকে তাদের প্রাপ্য অংশ দিতে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে টুলু পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম বলেন,
“আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার পর থেকে টুলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার কল করার পরেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।