বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০১

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির অভিযোগে আটক মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন শুনে এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে ওই অস্ত্র থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বরও পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, পিস্তলটি প্রথমে ঢাকার একটি অস্ত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আনা হয়। পরে তা চকবাজারের একটি অস্ত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয় এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রামের হামিদুল হক অস্ত্র বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যায়। এই প্রতিষ্ঠানের মালিকই হেলাল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

লাইসেন্স নবায়ন না থাকলেও অস্ত্রটি কেনাবেচা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অস্ত্র কীভাবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছাল, তা জানতে হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, এটি একটি আলোচিত হত্যা মামলা। অস্ত্রের উৎস এবং ব্যবহারকারীদের সম্পর্ক উদঘাটনের জন্য আসামিকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালতের প্রশ্নে হেলাল কোনো বক্তব্য দেননি। পরে আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর প্রথমে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়, পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে মোট ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যও ছিল।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top