বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

সন্তান জন্মের পর মানসিক লড়াই, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছেন বহু নারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:২০

সংগৃহীত

কলকাতা:
সন্তান জন্ম দেওয়া সাধারণত আনন্দের মুহূর্ত হিসেবেই বিবেচিত হয়। কিন্তু বাস্তবে বহু মায়ের জন্য এই সময়টি মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। শরীরের হঠাৎ পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, দায়িত্বের চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশার ভারে অনেক মা আক্রান্ত হচ্ছেন পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসবোত্তর অবসাদে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা নতুন নয়, কিন্তু এখনও যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।

দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা শ্রবণা গুপ্ত জানান, মেয়ের জন্মের কিছুদিন পর থেকেই তার মন ভালো থাকত না। সারাক্ষণ ক্লান্তি, অকারণে কান্না, রাগ এবং খাবারে অনীহা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছেন।

কলকাতার আর এক মহিলা, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই তিনি খুব সহজে মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন। শিশুর কান্না সহ্য করতে পারতেন না। পরিবারের লোকজন শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসায় জানা যায়, তিনিও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে গর্ভাবস্থায় প্রায় ১০ শতাংশ এবং সন্তান জন্মের পর প্রায় ১৩ শতাংশ নারী অবসাদে ভোগেন। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই হার আরও বেশি। ভারতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মা এই সমস্যায় ভুগলেও, সামাজিক লজ্জা ও অজ্ঞতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে না।

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণা ঘোষ জানান, সন্তান জন্মের পর প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যে যে অবসাদ দেখা যায়, তাকেই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি গুরুতর আকার নিতে পারে।

নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট ডা. রাজর্ষি নিয়োগীর মতে, পোস্টপার্টাম সমস্যার তিনটি ধাপ রয়েছে—পোস্টপার্টাম ব্লুজ, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং সবচেয়ে গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। শেষের ক্ষেত্রে মায়ের নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তাও আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের পরিবর্তন, জটিল প্রসব, সিজারিয়ান ডেলিভারি, আগে মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস এবং পারিবারিক বা সামাজিক চাপ এই অবসাদের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কন্যা সন্তানের জন্মের পর অনেক পরিবারে মায়ের প্রতি অবহেলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের মানসিক সমর্থন, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং সময়মতো কাউন্সেলিং এই সমস্যা মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের টেলি-মানস হেল্পলাইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, যা নতুন মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একটাই বার্তা—সন্তানের মতো সদ্য মা হওয়া নারীর যত্ন ও বোঝাপড়াও সমান প্রয়োজন। সময়মতো সহায়তা পেলে বহু জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top