শজনেডাঁটা ও পাতার পুষ্টিগুণ: উপকারিতা যেমন, তেমনি সতর্কতাও জরুরি
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৫
শজনেডাঁটা আমাদের অতি পরিচিত একটি সবজি। ডাঁটার পাশাপাশি এর পাতাও সমানভাবে খাওয়া হয় এবং পুষ্টিগুণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এটি জনপ্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যতালিকায় হাজার বছর ধরে থাকা এই শাকসবজি শুধু খাবার হিসেবেই নয়, প্রথাগত ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
জনেপাতা ও শজনেডাঁটা—দুটিই পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এক কাপ কুচি করা শজনেপাতা থেকে প্রায় ১৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এতে প্রোটিন, শর্করা, অল্প পরিমাণ চর্বি এবং আঁশ রয়েছে।
অন্যদিকে ১০০ গ্রাম সেদ্ধ শজনেডাঁটায় থাকে প্রায় ৩৬ ক্যালরি, সঙ্গে প্রোটিন, শর্করা ও আঁশ। এছাড়া শজনে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রনের ভালো উৎস।
শজনেপাতা ও ডাঁটায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। হাড়ের জন্য উপকারী: ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে । চোখের যত্নে কার্যকর: ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে । ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: কম ক্যালরি ও বেশি আঁশ থাকার কারণে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে । বিপাকক্রিয়া বাড়ায়: শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে
শজনেপাতা ও ডাঁটা নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়া যায়।
ভাজি, তরকারি, সালাদ কিংবা স্মুদি—বিভিন্নভাবে এটি খাওয়া সম্ভব। তবে আলাদা করে ওষুধের মতো অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদিও শজনেপাতা ও ডাঁটা সাধারণত নিরাপদ, তবুও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি— অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া, গ্যাস বা বমিভাব হতে পারে। গাছের শিকড়, বাকল ও ফুল খাওয়া নিরাপদ নয় । অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত
নিয়মিত কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে শজনেপাতা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। যেমন— রক্ত পাতলা করার ওষুধ, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ, থাইরয়েডের ওষুধ , যকৃতে প্রক্রিয়াজাত হয় এমন ওষুধ এছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে শজনেডাঁটায় অ্যালার্জি থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর শজনেপাতা ও শজনেডাঁটা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত খাওয়া বা বিশেষ শারীরিক অবস্থায় না বুঝে গ্রহণ করলে ঝুঁকিও থাকতে পারে। তাই পরিমিত খাওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।