রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মানব খুলি ও মানবদেহের হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। কবর থেকে লাশ তুলে কঙ্কাল বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ এলাকা ও উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ৪৭টি মানব খুলি এবং বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড় উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ফয়সাল আহম্মেদ উত্তরার একটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায় ছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জহুরুল ইসলাম। তারা কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী ও অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে কঙ্কাল বিক্রি করে আসছিলেন। এ কাজে অন্তত সাত সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ অভিযান চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে তেজগাঁও মণিপুরীপাড়া এলাকায় মানব কঙ্কাল বিক্রির প্রস্তুতির খবর পায় পুলিশ। সেখানে সন্দেহজনক আচরণের কারণে কাজী জহুরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে দুটি মানব কঙ্কালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল কালামের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে কঙ্কাল উত্তোলনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও কঙ্কাল চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ২১টি মামলা রয়েছে। আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি মামলা।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরা পশ্চিম এলাকার একটি ছাত্রাবাসের কক্ষে আরও বিপুল পরিমাণ কঙ্কাল মজুত রয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা ৪৪টি মানব খুলি এবং মানবদেহের বিভিন্ন হাড় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সাল আহম্মেদকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানান, তাদের একটি অনলাইন গ্রুপ রয়েছে যেখানে প্রায় ২০ হাজার সদস্য আছে। সেখানে প্রায় সাতশ মানুষ বিভিন্নভাবে কাজ করে। কয়েক বছর ধরে তারা কবর থেকে লাশ তুলে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছিল।
চক্রটি মূলত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চল থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করত। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে অরক্ষিত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হতো।
পুলিশ জানায়, মাঠপর্যায়ে প্রতিটি কঙ্কাল ছয় থেকে আট হাজার টাকায় কিনে তা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। কেমিক্যাল দিয়ে প্রক্রিয়া করার পর এসব কঙ্কাল মূলত শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হতো।
উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া কোনো পরিবার তাদের স্বজনের লাশ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।