সার্কুলার অর্থনীতিতে জোর না দিয়ে উপায় নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬, ১৩:৫৪
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ঢাকা-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে সুইচ টু সিই পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছে। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে যে এই রূপান্তর বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য। বিশেষ করে এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ এবং বেস্টসেলার-এর সহযোগিতায় পরিচালিত কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং ভ্যালু চেইন সমন্বয়ে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়বে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শিগগিরই নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করবে, যেখানে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা ও বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার কমে আসতে পারে। তাই এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করা জরুরি।
লজিস্টিক খরচ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক কস্ট টু জিডিপি অনুপাত প্রায় ১৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। এ ব্যয় কমাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর-এর দক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যে একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব একটি ড্যানিশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে সফল রূপান্তরের জন্য সরকার, শিল্পখাত, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।