বৃহঃস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

অনলাইন গেমের টাকার জন্য মাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চুন্নাপাড়া এলাকায় এক যুবক তার মাকে মারধরের অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকায় মো. জাবেদ (১৮) তার মাকে হাতের বটকি দিয়ে মারধর করেন। জাবেদ ওই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত মো. ইয়াকুবের ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি একমাত্র ছেলে হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, জাবেদ ঘরে বটকি হাতে মাকে টাকা দিতে বলছেন। ভিডিওতে মাকে মারধরের সময় তিনি বারবার ভয় দেখাচ্ছেন। ভুক্তভোগী মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও থামানো সম্ভব হচ্ছে না।

ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের সময় মা বারবার ছেলেকে থামানোর জন্য অনুরোধ করছেন এবং টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। আশেপাশের মানুষ ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ঘটনা জাবেদের বোন মোবাইলে ধারণ করেন, পরে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনেকে মাদক ও অনলাইন গেম আসক্তিকে যুব সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জাবেদের চাচা মো. খোকন জানান, বাবার মৃত্যু ও অর্থের অভাবের কারণে জাবেদ ও তার মা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে আছেন। এছাড়া জাবেদ মোবাইলে ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই কারণেই মাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি বাহিরের কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না।

ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ জানায়, ফ্রি ফায়ার ও পাবজি জাতীয় অনলাইন গেমে আসক্তির কারণে জাবেদ প্রায়ই পরিবারের কাছে টাকা চাইতেন। সর্বশেষ টাকা না পেয়ে তিনি মাকে মারধর করেন।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গেম আসক্তির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top