বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ঘোড়াশালে আবাসিক এলাকায় কন্টেইনার ডিপো নির্মাণে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগে স্থানীয়রা

নরসিংদী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৭

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রস্তাবিত কন্টেইনার ডিপো নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্লাগ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ডিপো স্থাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তাবিত ডিপোর আওতায় ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজার থেকে মুসাবিন হাকিম ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ এলাকায় রয়েছে ডিগ্রি কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, নিবন্ধিত ক্রীড়া ক্লাব, সরকারি ডাকঘরসহ ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় কন্টেইনার ডিপো স্থাপন করলে শব্দদূষণ, যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করবে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো জনপদ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

ঘোড়াশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঘোড়াশাল একটি জনবসতিপূর্ণ ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বসবাসের পরিবেশ নষ্ট করা। উন্নয়নের নামে যদি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হয় ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়ে, তবে সেটি কোনো উন্নয়ন নয়, বরং অবিচার।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কন্টেইনার ডিপো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী আইনগত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকসা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক কায়ছারুল আলম খান মিঠু বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের প্রকল্প হলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারী যানবাহনের শব্দে পাঠদান ব্যাহত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হবে।”

এদিকে ক্রীড়া সংগঠক উদয়ন সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. আল আমিন বলেন, “খেলার মাঠ ধ্বংস হয়ে গেলে তরুণ সমাজ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। খেলাধুলা তরুণদের সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ প্রকল্প তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।”

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ডিপো নির্মাণ হলে যানবাহনের ধোঁয়া ও যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে বায়ু ও শব্দ দূষণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচল বাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ‘আইসিডি ও কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী কন্টেইনার ডিপো শহর বা পৌরসভার বাইরে এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে তিনি অবগত নন। অন্যদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নের নামে বসতভিটা, শিক্ষা ও পরিবেশ ধ্বংস না করে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হোক। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top