ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আশপাশের দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে একজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই তীব্র কম্পনে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। প্রায় এক মিনিটের বেশি সময় ধরে কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। অনেকেই তাড়াহুড়া করে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রথমে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৮ হিসেবে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নর্থ মালুকু প্রদেশের টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের নিচে। স্থানীয় প্রশাসন টারনেট ও তিদোরসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সুনামি সতর্কতা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে সুনামির ঝুঁকি রয়েছে। কোথাও কোথাও ০ দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে জাপানে তুলনামূলক কম উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।