রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার কুয়েত বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে তেহরান। এরই ধারাবাহিকতায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল।

সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, হামলার পরপরই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থান নিরাপদ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হবে।

জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত্রু পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সেগুলো এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আঘাতের আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top