মৃত্যুর আগে নিজের শেষ বক্তৃতায় যা বলেছিলেন খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর অবশেষে স্বীকার করেছে ইরান সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় দেশে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলাতেই প্রাণ হারান তিনি। পরে প্রাসাদ চত্বরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, হামলায় প্রাসাদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাইও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মৃত্যুর ১১ দিন আগে সর্বশেষ জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন খামেনি। সে সময় তিনি ইরানের জন্য প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন। জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি বলেন, কোনো দেশের কাছে প্রতিরোধক্ষমতা না থাকলে তা শত্রুর পদতলে পরিণত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধক অস্ত্র ইরানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র অকারণে ইরানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও সক্ষমতা নিয়ে শর্ত আরোপের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, এটি ইরানি জাতির নিজস্ব বিষয়।
ওই বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন খামেনি। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো এমন আঘাত পেতে পারে, যার পরিণতিতে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া পোস্টে তিনি খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি আখ্যা দেন।
তিনি লেখেন, খামেনির মৃত্যু শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের জন্যও প্রত্যাশিত বিচার। তার দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে খামেনি ও তার সহযোগীরা পালানোর সুযোগ পাননি।
আরও এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা নিরাপত্তা বা ক্ষমা চাইছে। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, এখনই সুযোগ—দেরি করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে। পাশাপাশি তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত বিমান হামলা প্রয়োজন হলে অব্যাহত থাকবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।