ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেয়ী আর নেই: কেমন ছিল তার শাসনামল
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১১:১০
৮৬ বছর বয়সে এক সামরিক সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী হয়। মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার শাসনামল ছিল বিতর্ক, কঠোর অবস্থান, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের এক জটিল অধ্যায়।
১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনি-এর মৃত্যুর পর খামেনেয়ী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ভোগ করতেন। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে ছিলেন।
১৯৩৯ সালে ইরানের ধর্মীয় নগরী মাশহাদ-এ এক দরিদ্র ধর্মতাত্ত্বিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন খামেনেয়ী। তরুণ বয়সেই তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা রুহোল্লাহ খোমেনী-এর সান্নিধ্যে আসেন এবং শাহ শাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলনে যুক্ত হন। এই সময়ে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়। নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠে।
ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৮১ সালে তিনি ইরানের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময় ছিল চরম অস্থিরতার বিশেষ করে ইরান-ইরাক যুদ্ধ-এর প্রেক্ষাপটে দেশ পরিচালনা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৮১ সালে এক বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন; এতে তার ডান হাত চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। তবুও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় থাকেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনীর মৃত্যুর পর খামেনেয়ী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বা ‘রাহবার নিযুক্ত হন। এরপর টানা ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পশ্চিমাবিরোধী, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানে অবিচল ছিলেন।
তার নীতিতে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। খামেনেয়ীর আমলে ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পোরেশন ব্যাপকভাবে হয়। যোগ লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়ে হুথি আন্দোলন- এর মতোই বন্ধুর যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাণের প্রভাব বিস্তার করে। তার সরকারে ২০০৯ সালে সবুজ আন্দোলন এবং ২০২২ সালে মহসা আমিনি-মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কঠোরভাবে দমন করা হয়। গ্রহনযোগ্য প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক উপায় পড়ে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সত্ত্বেও তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেন। এই ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বিরাজ করে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।