রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

মিসাইল আতঙ্ক, কাছে গিয়েও হরমুজ পেরোতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৭

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। গত বৃহস্পতিবার জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করে দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। পরে জাহাজটি আবার পারস্য উপসাগরের আগের অবস্থানে ফিরে যায়।

এ ঘটনার পর জাহাজটি যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এ চিঠি পাঠিয়েছেন। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজটি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার নোঙর এলাকায় রয়েছে। যেহেতু এটি এখনো হরমুজ অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থান করছে, তাই কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে ইস্পাতের কুণ্ডলী বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে।

নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছায়। এ সময় প্রণালি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পান জাহাজের নাবিকেরা। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলরক্ষী বাহিনীও নিরাপত্তার কারণে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজটি আগের অবস্থানে ফিরে যায়।

এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের ২ মার্চ ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। ওই হামলায় জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরে জাহাজে আটকে পড়া ২৮ জন বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top