কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে আবারও ইরানের ভয়াবহ হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:১২
কাতারের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান শিল্প নগরীতে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে গ্যাসক্ষেত্রটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে বৃহস্পতিবার ভোরে, যখন কাতারএনার্জি নতুন করে ঘোষণা দেয়, যে রাস লাফান ছাড়াও আরও কিছু এলএনজি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড এবং আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পুরো অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সম্প্রতি ইরান তাদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিল। হুমকির তালিকায় কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান রিফাইনারি ছাড়াও সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্রের নাম ছিল।
ইরানের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। কাতার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় কাতার দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে এবং তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমির এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে ২ মার্চ মেসাইদ শিল্প নগরীর একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার পর কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জার্মানি, জাপান, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে, যেগুলো এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে গ্লোবাল সাউথের দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো।
কাতারে হামলার পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তারা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে হাবশান গ্যাস কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।