সুন্দরবনগামী পর্যটকরা কতটা নিরাপদ?
এস কে বাপ্পি খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৭
সুন্দরবনে পর্যটন বেড়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অনুমোদনবিহীন রিসোর্ট মালিকদের অবৈধ অফার ও বনের গভীরে প্রবেশ করানোর কারণে পর্যটকরা অপহরণ ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। নেভিগেশনবিহীন নৌযান ব্যবহার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকির অভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঝুঁকি। একদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ।

দাকোপের ঢ্যাংমারী এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট ‘গোলকানন’। এর মালিক শ্রীপতি বাছাড় রাজধানী থেকে আগত চার পর্যটককে ২ জানুয়ারি বনভূমির খালে নিয়ে যান। পরের দিন বিকেলে ডাকাতদলের হাতে তারা অপহৃত হন। ৫ জানুয়ারি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
শুধু গোলকানন নয়, সুন্দরবনের আশপাশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় আরও ৩৫টি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব রিসোর্টে বন কেটে খাল ভরাট করা হয়েছে। অধিকাংশ পর্যটক এসব রিসোর্টে আসছেন অবৈধভাবে। অভিযোগ রয়েছে—রাত্রিযাপনকালে হরিণের মাংস ও নেশাদ্রব্য সেবন করা হচ্ছে, কখনও নারী নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও হচ্ছে।
গত ৮ জানুয়ারি কোস্ট গার্ড ১১ কেজি হরিণের মাংসসহ ছয়জন পর্যটককে আটক করে। আটকদের মধ্যে দু’জন নারীও ছিলেন। এমন অবৈধ রিসোর্টের কারণে হরিণ নিধন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

রিসোর্টগুলোতে জেনারেটর ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার বনভূমি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। দূষিত প্লাস্টিক ও আবর্জনা নদীর পানিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দাকোপ, মোংলা ও কয়রা অঞ্চলের রিসোর্টে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না। লাউডোব ও ঢ্যাংমারীতে কোন পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প নেই। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বোরহান উদ্দীন মিঠু জানান, অনুমতি ছাড়া পরিচালিত ১২/১৩টি রিসোর্টকে তিনি আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন।
সুন্দরবনে পর্যটন বৃদ্ধির কারণে ২৯টি বিলাসবহুল নৌযান চালু হয়েছে, লগ্নি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তবে নৌযানগুলির অনেকটাই লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা নেভিগেশন লাইটবিহীন। কোস্ট গার্ডের সাময়িক তদারকিতেও দুর্ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, ৩ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ‘পাইরেটস অফ সুন্দরবন’ নামের পর্যটক জাহাজ বালুকাবোঝাই বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা খেয়ে পানিতে ডুবে যেতে বসেছিল; পরে কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার করে।
.jpeg)
সুন্দরবন ভ্রমণের মূল পথ দুটি—একদিনের প্রান্তসীমা সফর এবং তিন দিনের গভীর বনভ্রমণ। দুই ধরনের সফরের জন্যই পর্যটক পাস বাধ্যতামূলক হলেও, চোরাই পথে প্রবেশের কারণে অপহরণ ও বাঘের আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার বলেন, “সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন, পর্যটকের নিরাপদ ও উন্নত আবাসন সুবিধা, ঝুঁকি কমানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সব দপ্তরের সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।