পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত, সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:০০
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণে বড় ধরনের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর তথ্য অনুযায়ী, জনবল, আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের তুলনায় পাকিস্তান অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
চীনের কারিগরি সহায়তায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ধারাবাহিকভাবে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তালেবানরা যে বিদেশি সামরিক সরঞ্জাম দখলে নিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণ সংকট ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবও তাদের সামরিক আধুনিকায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যায় দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের মোট সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার। তারা এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
স্থলযুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী। দেশটির হাতে রয়েছে ছয় হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং চার হাজার ৬০০-এর বেশি কামান ও গোলন্দাজ সরঞ্জাম। বিপরীতে, আফগানিস্তানের কাছে সোভিয়েত আমলের কিছু প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট নয়। গোলন্দাজ বাহিনীর তথ্যও নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না।
আকাশপথে পাকিস্তানের একচ্ছত্র আধিপত্য বিদ্যমান। দেশটির হাতে রয়েছে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার, যার মধ্যে আক্রমণ ও পরিবহন উভয় ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কার্যকর কোনো বিমানবাহিনী নেই বললেই চলে। তাদের হাতে মাত্র ছয়টি পুরোনো বিমান ও ২৩টি হেলিকপ্টার থাকলেও কতগুলো উড্ডয়নের উপযোগী, তা নিশ্চিত নয়।
সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা যায় পারমাণবিক সক্ষমতায়। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। দেশটির ভাণ্ডারে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। বিপরীতে, আফগানিস্তানের কাছে এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনবল, প্রযুক্তি, আকাশ ও স্থল সক্ষমতা- সব দিক থেকেই পাকিস্তান এগিয়ে রয়েছে। তবে সংঘাতের বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে কৌশল, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের ওপর।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।