নাটোরে ঐতিহ্যবাহী গাঁওয়ালী শিন্নি উৎসব পালন

নাটোর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৩

সংগৃহীত

নাটোর সদর উপজেলার ভাতুরিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাঁওয়ালী শিন্নি উৎসব।ওই গ্রামের ২৬ টি সমাজের প্রায় ৬শ পরিবার অংশ নেন ওই শিন্নি উৎসবে।

স্থানীয় গ্রামবাসী সেলিম উদ্দীন জানান,

 এই শিন্নি উৎসবে অংশ নিয়েছেন প্রতিটি সমাজের ২৫-৫০ ঘর পরিবার। প্রতিটি পরিবার সর্বনিম্ন দুটি করে শিন্নির ভাগ নিয়েছেন। প্রতিভাগ শিন্নির চাঁদা আর চাল মিলে প্রায় দুশ টাকা পরিশোধ করেছেন। প্রতিটি সমাজে ১ টি করে মোট ২৬ টি খাসি কেনা হয়েছে। প্রতিটি খাসি ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা৷ 

 তিনি আরো জানান,আজ সোমবার ভোর থেকে খাসি জবেহ,মাংস তৈরীর পর এই মাংস দিয়ে ঝাল শিন্নি রান্না করেন গ্রামের মানুষ । দুপুর থেকে শিন্নি বিতরণ করা হয়েছে ।

গ্রামের অপর ব্যক্তি, ইমতিয়াজ বলেন এই গ্রামে শিন্নি উৎসবের ইতিহাস বলতে গিয়ে জানান, প্রায় দেড়শ বছর আগে এই গ্রামে ডায়রিয়া-কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।এতে অনেক মানুষ মারা যান। এনিয়ে স্থানীরা যখন দিশেহারা তখন আতব্দি ফকির নামে এক আলেম গ্রামবাসীদের শিন্নি করে দোয়ার আয়োজন করার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শমতে এই শিন্নি করার পর ধীরে ধীরে অসুস্থরা সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। এক সময় কেটে যায় ওই প্রাদুর্ভাব। সেই থেকে ওই শিন্নির প্রচলন বংশ পরস্পরায় চলমান রাখা হয়েছে।

তিনি জানান,ওই আলেমের পরামর্শ মোতাবেক গ্রামটিতে বছরে একবার ঝাল শিন্নি আর একবার মিষ্টি শিন্নির আয়োজন চলে আসছে।

স্থানীয় গৃহবধু শিখা খাতুন জানান,শিন্নি উৎসবটি তাদের ঈদের চেয়েও বেশি জাকজমক হয়। প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন কয়েকদিন আগেই। উৎসব শেষে দুই-একদিন পর বিদায় নেন স্বজনরা। শিন্নি উৎসবকে ঘিরে গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

দিঘাপতিয়া উত্তরা কেজির শিশু শিক্ষার্থী আবু তালহা জানান,তাদের বাড়িতে কয়েকদিন আগে থেকেই দূরের আত্মীয়রা এসেছেন। শিন্নি উৎসবে তারা খুব মজা করে পুরো গ্রামে আত্মীয়দের সাথে ঘুরে বেড়ান। শিন্নি উৎসবে গ্রামে অনেক দোকান বসে। তারা জিলাপিসহ বিভিন্ন জিনিস কিনে খান।

গ্রাম প্রধান ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর নাদিম উদ্দীন জানান,শিন্নি উৎসব উপলক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িতে এসেছেন জামাই-মেয়ে-নাতি-নাতনীসহ স্বজনরা। তাদের দেখাদেখি পাশের বিভিন্ন গ্রামেও এখন আয়োজন হয় গাঁওয়ালী শিন্নি। শিন্নি উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এটা শুধু এখন আর উৎসব নয়,বরং এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে সৃষ্টি হয় ভাতৃত্ব,সবাই ভুলে যান ভেদাভেদ। এমন উৎসবের আমেজ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে পুরো দেশে,এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

জালাল উদ্দিন,নাটোর



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top