জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল, বাংলাদেশে কী হবে?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৭

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে আজ সোমবার (৯ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৪ ডলার স্পর্শ করে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহের তুলনায় দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই অঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

সেখানে ইরানের সামরিক তৎপরতায় ১৫০টির বেশি জাহাজ আটকে আছে। রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

‎এদিকে বাংলাদেশে এখনো দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বর্তমানে ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।‎
‎তবে, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘আতঙ্কের কেনাকাটা’ বা প্যানিক বায়িংয়ের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বিবেচনাধীন।

‎বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বাড়লে আমাদের আমদানি বিলের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতি ১০ ডলার দামবৃদ্ধিতে আনুমানিক ৮০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা থাকে।

‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‎এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পক্ষে বলছেন।

একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামও চড়া হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও চাপ সৃষ্টি করবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top