দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় “দারিদ্র্যের জাদুকর” ড. মুহাম্মদ ইউনূস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:২৫
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন দারিদ্র্য বিমোচনের ‘স্বপ্নের সুযোগ’ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাস্তবতা অনুযায়ী, তার আমলে দেশে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়া ড. ইউনূসের হাতে ছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ, আর্থিক স্থিতিশীলতা আনা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
অর্থনৈতিক সূচকে বিপর্যয় বেসরকারি বিনিয়োগ: ২০২৪ সালের জুনে জিডিপির ২৪% থেকে ২০২৫ সালের জুনে ২২.৪৮%-এ নেমে আসে, যা চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারি বিনিয়োগ: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন জুলাই-নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ছিল মাত্র ১১.৫% – গত ১০ বছরে সর্বনিম্ন। খেলাপি ঋণ: সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার পৌঁছেছে ৩৫.৭৩%, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক ঋণ: দেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি।
ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৫%, আর মজুরি বৃদ্ধির হার ৮.১%-এর নিচে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণও কমেছে।
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার সময় গণতন্ত্র, প্রশাসন সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার আমলে: তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও তদন্ত হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক ও তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তার সময়ে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, ধর্মীয় সহিংসতা, মাজার-মন্দির ভাঙচুর এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
বিশ্বব্যাপী “তিন শূন্য” (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ) প্রচারণা চালানো ড. ইউনূস নিজে প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন তা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যখন তিনি আবারও তার পুরনো কর্মে ফিরবেন, তখন কি তিনি “তিন শূন্য” অর্জনে বিশ্বকে মনোযোগ দিতে পারবেন?
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।