ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরলো ৪৪৭ জনের প্রাণ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৯
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়কপথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। মাসজুড়ে মোট ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ১৮১ জন।
শুক্রবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটির দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ শাখা এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল সড়কপথই নয়, রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ। ফেব্রুয়ারিতে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন।
সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক হাজার ১৯৭ জন পঙ্গুত্ব বা গুরুতর আহত হওয়ার শিকার হয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ছিল। মাসজুড়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর কর্মী এবং ২ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু এবং ৪৭ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল যানবাহনের চাপায় মৃত্যু এবং ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ।
দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে।
যানবাহনের ত্রুটি এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার প্রধান কারিগরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উপসড়ক থেকে হঠাৎ প্রধান সড়কে যানবাহন উঠে আসা এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত সড়ক নির্দেশনা না থাকাকেও দায়ী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন খাত পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত দুর্বলতাও দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এছাড়া দক্ষ চালকের অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা সড়কে মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বড় ধরনের সংস্কার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।