তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৩
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়াতে দেওয়া যাবে না।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত, জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। তবুও দাম বাড়ানোর পরিবর্তে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজে করে ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ আসবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, কোনোভাবেই যেন জ্বালানি তেলের মজুতদারি না হয়। এ জন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি সবাইকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিয়ে কেউ তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য রোববার থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে জ্বালানি তেল রেশনিং কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র ভিড়, হুড়াহুড়ি এবং বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে তেল সংকটের কারণে শনিবার দুপুরের মধ্যেই শতাধিক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।