শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

শেখ পরিবার সংশ্লিষ্ট জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করবে না সরকার

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৮

ছবি: সংগৃহীত

সরকার শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে অতীতে প্রচলিত জাতীয় দিবস আর উদযাপন করবে না বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে মোট ৮৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবর্তিত শেখ পরিবারের সংশ্লিষ্ট দিবসগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতো, যা এখন থেকে আর কার্যকর থাকবে না।

সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকীকে প্রথমবারের মতো ‘এ’ ক্যাটাগরির দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সকল দিবসকে গুরুত্ব অনুসারে তিনটি শ্রেণিতে—এ, বি এবং সি—বিন্যস্ত করেছে। এ ক্যাটাগরিতে ১৭টি, বি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি এবং সি ক্যাটাগরিতে ৩৫টি দিবস রাখা হয়েছে। বীমা দিবসের মর্যাদা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে, যা আগে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ছিল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বি’ ক্যাটাগরির দিবসের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে এবং এগুলোতে মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হতে পারে। অন্যদিকে ‘সি’ ক্যাটাগরির দিবসগুলো নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক পরিসরে পালন করা হবে, সরকারি বরাদ্দ থাকবে না।

রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয় ও অপ্রয়োজনীয় উদযাপন এড়াতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অপ্রাসঙ্গিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরত থাকতে হবে। জাঁকজমকপূর্ণ সমাবেশের বদলে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও গণমাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে দিবসগুলো পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী দিবস বা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো বড় আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমতি নিতে হবে। সময়ের প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় উদযাপন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top