একটি রাত, একটি তেলের পাম্প—নির্ঘুম শত মানুষের অপেক্ষা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় একটি তেলের পাম্প ঘিরে শনিবার গভীর রাতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। শহর যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন সেখানে শত শত মানুষ জ্বালানি তেলের আশায় নির্ঘুম অপেক্ষায় কাটিয়েছেন পুরো রাত।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাখালী থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি চোখে পড়ে। হেডলাইটের আলো আর ক্লান্ত মানুষের মুখ যেন বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

রায়েরবাগ থেকে আসা মোটরসাইকেল চালক কামরুল হাসান জানান, রাত নয়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর চারটার দিকে মাত্র ৬০০ টাকার তেল পেয়েছেন। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

পাম্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তত ৪৮৩টি মোটরসাইকেল, ৩৬৯টি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ৩১টি পণ্যবাহী ট্রাক তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে যানবাহনের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ সময় কাটাতে মোবাইল ব্যবহার করছেন।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০-৫২ হাজার লিটার তেল সরবরাহ হতো, এখন তা কমে ৩৭-৪০ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার প্রবণতাও বেড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাম্প কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকের জন্য আলাদা লাইন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করেছে। মোটরসাইকেলের জন্য ৬০০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ট্রাকের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় লাইনে থাকা মানুষদের জন্য আশপাশে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। চা, সিগারেট, ঝালমুড়ি ও হালকা খাবারের চাহিদা বেড়েছে রাতের বেলায়।

উবার চালক শাহীন খান অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং আয় কমে যাচ্ছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৬টাতেও লাইনের দৈর্ঘ্য খুব একটা কমেনি। বরং নতুন করে আরও যানবাহন যুক্ত হওয়ায় ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রল পাম্প রাতে বন্ধ থাকায় হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পেই এই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

সুত্র: প্রথম আলো



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top