শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন, বেরিয়ে এলো দুই নারীর চক্রান্ত

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬, ২১:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। নিহত প্রবাসী নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক ও আর্থিক দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন দুই নারীর প্ররোচনা ও দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হুমায়ুন ফকির দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে সেখানে নিয়ে যান। বিদেশে নেওয়ার খরচ ধীরে ধীরে পরিশোধ করছিলেন নয়ন। এরই মধ্যে হুমায়ুন গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।

জানা যায়, এই দ্বন্দ্ব শুধু দুই ভাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই নারীর প্রভাব, পারস্পরিক হিংসা এবং অর্থনৈতিক লোভও এতে ভূমিকা রাখে। অভিযোগ রয়েছে, হুমায়ুনের দুই স্ত্রীই নয়নের বিরুদ্ধে তাকে উসকানি দিতেন। তারা বারবার তুলনা করে হুমায়ুনকে মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলতেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, নয়ন পরিবারের অধিকাংশ খরচ বহন করতেন। বাবার অসুস্থতার সময় তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করান। পাশাপাশি সংসারের নানা খরচও তিনি চালাতেন। সম্প্রতি তিনি পাশের এলাকায় প্রায় দশ শতাংশ জমি কিনেন, যার মূল্য প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা। এই সাফল্যই পারিবারিক ঈর্ষার জন্ম দেয় বলে অভিযোগ।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা, দুজনই নয়নের বিরুদ্ধে হুমায়ুনকে প্রভাবিত করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তারা নিয়মিতভাবে ছোট ভাইয়ের আর্থিক সাফল্যের তুলনা টেনে হুমায়ুনকে অপমানিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন হুমায়ুন তার প্রথম স্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দম্ভ করে লেখেন, তিনি নয়নকে হত্যা করে খাবেন। এতে বোঝা যায়, এটি তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী তায়েবা দাবি করেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল এবং সেই দ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।

নিহত নয়নের মা বলেন, তার ছোট ছেলে নির্দোষ ছিল। তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বড় ছেলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নয়নের মৃত্যুর পর শোকের মধ্যে থাকা পরিবারের বিরুদ্ধে হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থানায় চুরির মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ তার বাসা থেকে মালামাল ও টাকা নিয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, ইতালির লেইজ শহরে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত হুমায়ুনকে আটক করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top