বৃহঃস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

মূল্যস্ফীতি কারনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১২

সংগৃহীত

দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য, দেশে জ্বালানির দাম সমন্বয় এবং বিদ্যমান সরবরাহ সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জ্বালানির মূল্য বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট-এর মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি করবে, তবে সময়ের সঙ্গে তা কিছুটা কমে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি প্রায় সব খাতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার পর ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি ও মসলার দাম বৃদ্ধির কারণে এ প্রবণতা দেখা গেছে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য—মাংস, মাছ ও ডিম—এখনও মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যপণ্য, পোশাক ও জুতার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ সময় ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি দেশীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতেও অবদান বেড়েছে। তবে অখাদ্য আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে এ অবদান কিছুটা কমেছে।

যদিও মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ব্যবধান কিছুটা কমেছে, তবুও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এলেও মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ—ফলে ক্রয়ক্ষমতা সামান্য কমেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যচাপ কমানো এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top