বিশ্বকাপের মাঝে বাবা হারালেন রিঙ্কু সিং
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:৪৮
বিশ্বকাপের মাঝপথে বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে দলের শিবির ছেড়ে পরিবারের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন রিঙ্কু সিং। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর বাবাকে ফিরে পেলেন না এই ভারতীয় ক্রিকেটার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রিঙ্কুর বাবা খানচাঁড় সিং। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ভারতের সাবেক অফ স্পিনার হারভাজন সিং।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে হারভাজন বলেন, রিঙ্কু সিংয়ের বাবা শ্রী খানচাঁড় সিংজির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্বকাপের দায়িত্ব পালনের মাঝেও রিঙ্কু ও তার পরিবারের জন্য সময়টি অত্যন্ত কঠিন। তিনি রিঙ্কু ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন খানচাঁড় সিং। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকা রিঙ্কু ছুটি নিয়ে বাবার পাশে যান।
পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আবারও দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। বিশ্বকাপের আগের পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামা ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ওই ম্যাচের একাদশে সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তবে দুঃসংবাদ পাওয়ার পর আবারও পরিবারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রিঙ্কুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে তার বাবার সংগ্রামের গল্প অনেকটা রূপকথার মতো। উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন খানচাঁড় সিং। পাঁচ সন্তানের সংসারে ছিল চরম আর্থিক সংকট। তৃতীয় সন্তান রিঙ্কু ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে মগ্ন ছিলেন।
শুরুর দিকে ছেলের ক্রিকেটপ্রীতিতে আপত্তি থাকলেও পরে তার স্বপ্নের প্রতি সমর্থন জুগিয়েছিলেন বাবা। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার সামলানোর পাশাপাশি ছেলেকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছেন তিনি। রিঙ্কুও ছোটখাটো পুরস্কার পেলে সেই অর্থ বাবার হাতেই তুলে দিতেন।
পরিবারের প্রয়োজনে আলিগড়ের মহল্লায় ঝাড়ুদারের কাজও করেছেন রিঙ্কু। সংসার আর ছেলের ক্রিকেট খরচ চালাতে নানা সময়ে ধারদেনা করতে হয়েছে খানচাঁড় সিংকে।
পরবর্তীতে সেই কষ্টের দিন পেছনে ফেলে ঘরোয়া ক্রিকেট ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-এ দারুণ পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন রিঙ্কু। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে খেলছেন তিনি। তবে ছেলের সাফল্যের দীর্ঘ সুখভোগ আর করা হলো না সংগ্রামী এই বাবার।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।