২০১৯ বিশ্বকাপ ঘিরে যে আক্ষেপ ঝরল মুশফিক-তামিমের কণ্ঠে
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩
২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে এখনো এক অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প। সেই আসরে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। দলটির সামনে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অষ্টম স্থানে থেকে আসর শেষ করে দেশে ফেরে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে ছিলেন তামিম ইকবাল। আশা ছিল আসরে সেঞ্চুরি করবেন তিনি। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও তাই আক্ষেপ রয়েছে তার। একই সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
অন্যদিকে ওই বিশ্বকাপে ভালো খেললেও দল প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় আক্ষেপ রয়ে গেছে মুশফিকুর রহিম–এর। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রজন্মের ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কোনো বড় শিরোপা না আসাও তার কাছে বড় হতাশার বিষয়।
সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন মুশফিক ও তামিম। সেখানে মুশফিক বলেন, সবচেয়ে বড় আফসোস হলো বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে না পারা। তাদের মতে, এমন একটি সাফল্য পেলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকত।
সাম্প্রতিক এক বিশ্বকাপে খেলতে না পারা প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুশফিক। তিনি জানান, বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা অবশ্যই বড় ক্ষতি। শেষ পর্যন্ত অন্য দলগুলো ঠিকই খেলেছে, কিন্তু তারা সেই সুযোগ পাননি।
নিজেকে ভবিষ্যতে কীভাবে মনে রাখতে চান- এ প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, তিনি চান মানুষ তাকে এমন একজন ক্রিকেটার হিসেবে মনে রাখুক, যিনি দেশের জন্য লড়াই করেছেন।
একই প্রশ্নের উত্তরে তামিম জানান, তিনি চান মানুষ তাকে একজন ওপেনার হিসেবেই স্মরণ করুক।
২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তামিম বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া দল মোটামুটি ভালোই খেলেছিল। ভারতের বিপক্ষেও খুব খারাপ করেনি বাংলাদেশ। তার মতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে পারলে এবং বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি খেলতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজে যদি আরও কিছুটা ভালো খেলতেন এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা যদি আরও কয়েকটি উইকেট নিতে পারতেন, তাহলে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারত। ওই আসরে সাকিবের পাশাপাশি মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ–ও ভালো খেলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তামিম বলেন, এটি তার জন্য আক্ষেপের হলেও একই সঙ্গে বড় শিক্ষা। তার মতে, কোনো কিছু অতিরিক্ত চাওয়ার ফলে নিজের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি।
আলোচনার শুরুতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের স্মৃতিও তুলে ধরেন মুশফিক। তিনি বলেন, এখন ভারতের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, ছোটবেলায় তামিমকেও তেমনই শক্তিশালী ব্যাটসম্যান মনে হতো।
আড্ডায় দুই ক্রিকেটার তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।