রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

মাসকাটে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

ট্রাম্পের ‘সর্বগ্রাসী দাবি’ ভেস্তে দিতে পারে ইরান আলোচনা

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও বিস্তৃত দাবির কারণে এই আলোচনা আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে উপস্থিত আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বর্তমান দুর্বল অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের পরিচালক সিনা আজোদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এখনই ইরানের কাছ থেকে সর্বাধিক ছাড় আদায়ের উপযুক্ত সময়।

এই দাবির মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা,  ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ,  আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ এই বিস্তৃত এজেন্ডার কারণেই আগের আলোচনা বারবার ভেস্তে গেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, অর্থবহ আলোচনা চাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ সমর্থন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আলোচনায় আনতেই হবে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মূলত দুটি বিষয় চান—
১. ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে
২. সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা হয়

এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কৌশলকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘অনিশ্চিত ও খামখেয়ালি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অতীতে ওমানে একাধিক দফা আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ ইরানে হামলা চালিয়েছে, যা তেহরানের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই আলোচনায় যাচ্ছে। ইরান কতটা ছাড় দেবে, তার ওপর নির্ভর করে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য বারবার বদলাতে পারে।

ইরান স্পষ্ট করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের সার্বভৌম নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। সিনা আজোদি বলেন, এই কর্মসূচি দুর্বল করা হলে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে ইরান পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়বে, যা তারা কখনোই মেনে নেবে না। 

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকেও ভোগ করতে হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top