শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন রণসজ্জা, ইরানে হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৯

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন রণসজ্জা, ইরানে হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা।  ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক রণসজ্জার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ধারণ করা উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, ওই ঘাঁটিতে ৬০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এই অস্বাভাবিক সামরিক উপস্থিতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি কি না—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরালো আলোচনা।

The New York Times–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী গত রোববার থেকে অন্তত ৬৮টি কার্গো বিমান মুয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে। উপগ্রহচিত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক যুদ্ধবিমান দেখা গেছে, যার মধ্যে রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এফ–৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেটও রয়েছে।

এ ছাড়া ঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচেও বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সেখানে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। Jordan–এর কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই রণসজ্জা কেবল চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের একটি কড়া বার্তা। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সাংবাদিকদের জানান, ইরানকে নতুন একটি চুক্তিতে রাজি করাতে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে ‘সীমিত সামরিক হামলার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান অঞ্চলটির স্থিতিশীলতাকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জর্ডানে আধুনিক যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ ইরানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন, কারণ এই উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে সরাসরি পড়তে পারে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top