প্রথমবার ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালাল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো সেজ্জিল ২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র নামে পরিচিত এই অস্ত্রটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম।
রবিবার প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি। একই দিন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল সংঘাতের ১৬তম দিন পার হয়েছে।
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রকে নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও সাজ্জিল এবং আশুরা নামেও ডাকা হয়। এটি ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই স্তরের এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৭০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় তরল জ্বালানির পরিবর্তে সলিড জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। উচ্চ উচ্চতায় কৌশলী গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে একে নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্যান্সিং মিসাইল বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার, ব্যাস ১ দশমিক ২৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কেজি।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে ইরান এবং ২০০৮ সালে তা সম্পন্ন হয়। একই বছর প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি।
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সংস্করণ রয়েছে সেজ্জিল ১ এবং সেজ্জিল ২। এর মধ্যে সেজ্জিল ১ স্বল্প পাল্লার এবং সেজ্জিল ২ মাঝারি পাল্লার। রোববার সেজ্জিল ২ সংস্করণটি ব্যবহার করেছে ইরান।
সূত্র: এএফপি
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।