হরমুজে হাজারো নাবিকের ভাসমান বন্দী জীবন,প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৭
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-এ। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতাধিক ট্যাংকারে আটকা পড়েছেন হাজারো নাবিক—যাদের প্রতিদিন কাটছে ভয়, অনিশ্চয়তা আর ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষায়।
আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকো জানিয়েছে, বর্তমানে ১০৫টির বেশি জাহাজে প্রায় ২ হাজার ৪০০ নাবিক আটকা অবস্থায় রয়েছেন। অনেকেই নিজেদের পরিস্থিতিকে “ভাসমান কারাগার” বলে বর্ণনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাবিকের ভাষায়, “আমরা যেন বন্দি। শুধু বাড়ি ফিরতে চাই, কিন্তু সেই পথ এখন বন্ধ।”
খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং ন্যূনতম জীবনযাপনের উপকরণ সংকটের মুখে পড়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৃত্যুভয়—যে কোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা। পরিবারে ফেরা এখন শুধু স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
বিবিসির 'টুডে' অনুষ্ঠানে ইন্টারট্যাংকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, ইরানের উপকূলঘেঁষা এলাকায় বহু জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং চরম ক্লান্তি বেড়েই চলেছে।
তিনি জানান, জাহাজে খাদ্য, পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয়গুলোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জানেন না, ঠিক কবে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
এক নাবিক এবিসি নিউজ-কে বলেন, “প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ভয় হলো—আমরা আদৌ জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারব কিনা।”
তিনি আরও জানান, সরু এই জলপথে অবস্থান করায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ড্রোন, মানববিহীন যান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত তাদের ঘিরে রেখেছে। “আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যায়—যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে,”—বলেছেন তিনি।
আরেক নাবিক দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, তিনি ইতোমধ্যে চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে আর যাত্রা করতে রাজি নন।
নাবিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৯০০টি সহায়তার আবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ছিল দেশে ফেরার অনুরোধ, আর বাকিগুলো খাদ্য, জ্বালানি ও পানির সংকট নিয়ে। ইতোমধ্যে ৪৫০ জন নাবিককে নিরাপদে ফেরাতে সহায়তা করা হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।