ঈদের উপহার আর পৌঁছাল না, ফিরল শুধু সোহেলের নিথর দেহ
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫
ঈদকে ঘিরে আনন্দ আর স্বপ্ন ছিল সোহেল ফকিরের মনে। মাথার চুল কেটে, নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে তিন বোনের জন্য ঢাকা থেকে নানা উপহার কিনেছিলেন তিনি। নতুন জামা, জুতো আর ভালোবাসায় ভরা উপহার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বোনদের মুখে হাসি দেখার স্বপ্ন দেখছিলেন সোহেল।
সদরঘাটে পৌঁছে মাকে ফোন করে আনন্দের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই লঞ্চে উঠবেন। সঙ্গে আছেন তার বাবা ও স্ত্রী। কিন্তু সেই আনন্দ আর ঘরে পৌঁছায়নি। নির্মম দুর্ঘটনায় সোহেল ফিরলেন ঠিকই, তবে নিথর দেহ হয়ে।
ঘটনার চেয়েও হৃদয়বিদারক হলো- তার বাবা এখনো নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, নদীর গভীরে তলিয়ে গেছেন তিনি। একদিনেই পরিবারের দুই ভরসা হারিয়ে এখন ঘরে পড়ে আছেন অসহায় মা।
সোহেলের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর চারদিকে নেমে আসে শোকের নীরবতা। পরে তা ভেঙে পড়ে আহাজারিতে। ছেলের মুখ ধরে মা চিৎকার করে ডাকতে থাকেন—“ও বাবা সোহেল, তুই তো আসতেছিলি, তোর বাবার সঙ্গে আসার কথা ছিল, তোর বাবাটা কোথায়?”
তিন বোন ভাইয়ের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, “ভাইয়া, আমাদের ফেলে কোথায় গেলে? আমাদের বাবা নাই, তুমি নাই—আমরা তো আজ এতিম হয়ে গেলাম।”
স্থানীয়রা জানান, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তারা জীবনে খুব কমই দেখেছেন। মুহূর্তেই একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
জানা গেছে, সোহেলের বাবা মিরাজ ফকির প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসেন। সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাঁচ বছর আগে ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। সোহেলও বাবার পেশায় যুক্ত হন। দুই বছর আগে বিয়ে করেন এবং স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সম্প্রতি বোনাস পাওয়ার পর ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবারসহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু পথেই দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে সোহেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার বাবা মিরাজ ফকির। আর তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল সোহেলের লাশ গ্রামে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও গ্রামবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এমন মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।