মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

এবারের নির্বাচনে ব্যয় কত?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩১

ছবি: সংগৃহীত

এক দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এটি দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি।

তবে এত বড় বাজেটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোটের ব্যয় কতটা যৌক্তিক—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গণভোটে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট আয়োজনের ব্যাপ্তির তুলনায় এই ব্যয় অস্বাভাবিক নয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ। প্রতিটি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার জন্য গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) থাকবে।

এবার প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত ১২৩টি দেশের ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এতে প্রতিজনের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে দেশে ভোটারপ্রতি মাথাপিছু ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৬৪ টাকা।

নির্বাচনী বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে—১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি। এতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ভোটকেন্দ্রে নজরদারি করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “নির্বাচন, গণভোট, পোস্টাল ব্যালট ও আইটি সাপোর্ট—সব মিলিয়ে এবারের আয়োজন অনেক বড়। সেই তুলনায় কমিশন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ই করছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৫ বছরে দেশে নির্বাচনী ব্যয় বেড়েছে ৪৩ গুণ। পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন,“প্রার্থী ও গণভোটের বিষয় একই ব্যালটে রাখা গেলে খরচ কমানো যেত। সৃজনশীলভাবে চিন্তা করলে ব্যয় কমানোর সুযোগ এখনও রয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল: ৫১টি, সংসদীয় আসন: ২৯৭টি
(পাবনা-১, পাবনা-২ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত), মোট প্রার্থী: ১,৯৯৪ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৫৬ জন, দেশি পর্যবেক্ষক: ৫৫,৪৫৪ জন (৮১টি সংস্থা), বিদেশি পর্যবেক্ষক: প্রায় ৫০০ জন।

রিটার্নিং অফিসার: ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার: ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার: ৪২,৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার: ২,৪৭,৪৮২ জন, পোলিং অফিসার: ৪,৯৫,৭৬৪ জন, মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা: ৭,৮৫,২২৫ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য: প্রায় সাড়ে ৯ লাখ, পোস্টাল ভোটে দায়িত্বে: প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।

বিশাল বাজেটের এই নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বড়, তেমনি জবাবদিহির প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচিত সংসদকে জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top